গণতন্ত্রের বিকাশে সংসদকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি। তিনি বলেছেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংসদে আবেগ নয়, যুক্তি ও তর্কের ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত। ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ- এটিকে উত্তেজনা হিসেবে নয়, ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা হিসেবে দেখা প্রয়োজন।’
রোববার ৩ মে গাজীপুরের টঙ্গীর গুশুলিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ২৭তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, একদলীয় শাসনামলে সংসদে একপক্ষীয় বক্তব্যের প্রাধান্য দেখা গেলেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক। সবাই একইভাবে কথা বলবে না- এটাই গণতন্ত্রের বাস্তবতা। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এর আগের দিন ২ মে শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে আমার বাংলাদেশ -এবি পার্টির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বলেন, একাত্তর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নেতারা অনেক ভুল করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানষ কখনো ভুল করেনি। আমরা যখন ভুল করে গণতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি অথবা অতি ক্ষমতাবান ও অতি শক্তিশালী হয়েছি -তখন বাংলাদেশের জনগণ জীবন দিয়ে তাদের সে ভুল সংশোধন করে দিয়েছে। ঠিক একইভাবে চব্বিশের ৫ আগস্ট আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করে এই ছাত্র-জনতা আবার নতুন করে গণতন্ত্র উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু প্রতিবাদি। তারা স্টাবলিশমেন্টের এন্টি। এই সত্য উপলব্ধি করে আমাদের সঠিক পথে থাকতে হবে। নেতৃত্বে গেলেই আমি ভুলপথে চলে যাব। এই ভুল যেই ক্ষমা করুক, বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।
তিনি আরো বলেন, এখানে জুলাই যোদ্ধারা রয়েছে। আমরা জুলাই যোদ্ধা হতে পারিনি। কিন্তু এটুকু বলতে পারি জুলাই যোদ্ধার যে আদর্শ ও সংগ্রাম, আমরা সেটি বুকে ধারণ করেছি। ফুটবলে যেরকম ১১ জন খেললেও সবাই গোল করতে পারে না। আনন্দ ও গর্বের সাথে বলি, আজকের যারা এনসিপি ও জুলাই যোদ্ধা তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে। আমরাও করেছি। তেমনি আমরাও সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু তারা অর্জন করতে পেরেছে। আমরা তাদের অর্জনে গর্ববোধ করেছি। তাদের অর্জনের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন হয়েছে। মূল সংগ্রাম ও প্রতিবাদ হয়েছে গণতন্ত্রের জন্যই।