Home Uncategorized ৮ সন্তানকেই কোরআনের হাফেজ বানান সেই প্রফেসর নূরুল হক

৮ সন্তানকেই কোরআনের হাফেজ বানান সেই প্রফেসর নূরুল হক

Share

ঢাকা কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল প্রফেসর মো. নূরুল হক মিয়া আর নেই। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর জামাতা।

তিনি দুই ছেলে ও ছয় কন্যার জনক। সবাইকেই তিনি কোরআনে হাফেজ বানিয়েছেন। দুই ছেলেই মাওলানা। দুইজনই দেশে প্রথম সারির দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শিক্ষক। ঢাকা কলেজ প্রিন্সিপালের আট সন্তানই হাফেজ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ছাত্রজীবন থেকেই তাবলিগ জামাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অধ্যাপনা ও লেখালেখির পাশাপাশি সারা জীবনই দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করেছেন। চাকরি জীবন থেকে অবসরের পর অনেক ধরনের অফার থাকলেও তিনি সেগুলো গ্রহণ করেননি। তাবলিগের কাজ করেছেন। বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন।

শনিবার তিনি রাজধানীর আজিমপুরস্থ আমতলা রোড ৩০ নং শেখ সাহেব বাজারের নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

প্রফেসর নূরুল হকের ছেলে হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক জানান, আজ এশার নামাজের পর সাত মসজিদ চত্বরে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে পারিবারিক গোরস্থানে শাইখুল হাদীস আজিজুল হক (রহ.) এর পাশে দাফন করা হবে।

খ্যাতির মূল কারণ

প্রফেসর নূরুল হক মিয়া বিখ্যাত ছিলেন রসায়নবিদ হিসেবে। কেমিস্ট্রি প্রফেসর হিসেবে তার খ্যাতির মূল কারণ ছিল বই। ইন্টার ও ডিগ্রি ক্লাসে রসায়নের ওপর লিখিত তার সাতটি বই সিলেবাসভুক্ত। বিশেষ করে ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত সারা দেশে এককভাবে রাজত্ব করেছে এইচএসসির তার লেখা রসায়ন বইটি। দ্বিতীয় কোন বই ছিল না।

১৯৬৯ এ শিক্ষকতার পেশায় যোগ দিয়ে অধ্যাপনা করেছেন দেশসেরা প্রতিষ্ঠানসমূহে। সিলেট এমসি কলেজ, ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ, টাংগাইল করোটিয়া কলেজ, ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ, জগন্নাথ কলেজ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। প্রায় দীর্ঘ এক যুগ ছিলেন ঢাকা কলেজে। কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের হেড ছিলেন চার বছর। সর্বশেষ ২০০১ সালে তিনি ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রফেসর মো. নূরুল হক মিয়ার আরও একটি পরিচয় হলো তিনি হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের ভগ্নিপতি তিনি।

১৯৪৪ সালের ১ জুলাই গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার অজপাড়া জন্ম নেয়া নূরুল হক শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে। সেশন ১৯৬৬-৬৭। থাকতেন ফজলুল হক মুসলিম হলের ৩৫৯ নম্বর রুমে।

শিক্ষাজীবনে রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমদ, ফেরদাউস আহমদ কোরাইশি, সিরাজুল আলম খানের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ট ছিলেন বর্তমান হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের ভগ্নিপতি প্রফেসর মো: নূরুল হক মিয়া।

পায়ে হেঁটেই কলেজের যেতেন তিনি

প্রফেসর নূরুল হকের ছেলে হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক জানান, আবার বাবা সারা জীবন সহজ সরল জীবন যাপন করেছেন। যতদিন প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রিন্সিপালের সুবিধাগুলো নেননি। সরকারি গাড়ি, সরকারি বাংলো কোনো কিছুই নেননি। এমনকি মোবাইল ফোনও না। লালবাগের বাসা থেকে পায়ে হেঁটেই অধিকাংশ সময় কলেজে আসতেন। যখন প্রিন্সিপাল ছিলেন তখনও ওইভাবেই চলাফেরা করতেন।

 

Related Articles

অভিনয় ছাড়া থাকতে পারি না: ডা. এজাজুল

ডা. এজাজুল ইসলাম। নন্দিত অভিনেতা ও চিকিৎসক। আরটিভিতে আজ শুরু হচ্ছে তাঁর...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ‘বিপজ্জনক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ’: জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ’ বলে উল্লেখ...

সংঘাত বন্ধে রাজি ভারত-পাকিস্তান: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা সংঘাত বন্ধে...

পেস বোলিং কোচ হিসেবে উমর গুলকে চায় বিসিবি

বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব নিতে পারেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা...